বিকল্প পথে তুরস্ক দিয়ে তেল রপ্তানি শুরু ইরাকের

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে ইরাক। এই সংকট মোকাবিলায় এবং তেল রপ্তানি সচল রাখতে বিকল্প পথ হিসেবে তুরস্ককে বেছে নিয়েছে দেশটি। 

বুধবার (১৮ মার্চ) থেকে তুরস্কের জেইহান (Ceyhan) বন্দরের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করেছে বাগদাদ।

ইরাকি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল বর্তমানে পাইপলাইনের মাধ্যমে তুরস্কের জেইহান বন্দরে পাঠানো হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ‘নর্থ অয়েল কোম্পানি’ জানিয়েছে, কিরকুক অঞ্চলের তেল রপ্তানির জন্য ‘সারলো পাম্পিং স্টেশন’ পুনরায় সচল করা হয়েছে। এই পাইপলাইনটি স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের ওপর দিয়ে যাওয়ায় তাদের সঙ্গেও একটি বিশেষ সমঝোতায় পৌঁছাতে হয়েছে ইরাক সরকারকে।

চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইরাক প্রতিদিন গড়ে ৩.৫ মিলিয়ন (৩৫ লাখ) ব্যারেল তেল রপ্তানি করত। এর সিংহভাগই দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে বিশ্ববাজারে যেত। কিন্তু ইরানের অবরোধের কারণে এই প্রধান রুটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরাকের তেল অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। বর্তমানের এই ২.৫ লাখ ব্যারেল রপ্তানি আগের তুলনায় খুবই নগণ্য হলেও এটি দেশটির জন্য কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

বিকল্প পথের পাশাপাশি ইরাক সরাসরি ইরানের সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। বাগদাদের লক্ষ্য হলো- তেহরানকে বুঝিয়ে তাদের অন্তত কিছু তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি আদায় করা।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। এই জলপথটি বন্ধ থাকায় বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হচ্ছে এবং তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। ইরাকের এই নতুন উদ্যোগ বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কিছুটা বাড়াতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: এএফপি