যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান আলী লারিজানি এবং বাসিজ ফোর্সের প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানির জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) রাজধানী তেহরানে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানাজায় দেশটির সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সামরিক কমান্ডার এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ সমবেত হন। লারিজানি ও সোলাইমানির কফিন যখন তেহরানের রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন উপস্থিত জনতা শোক প্রকাশের পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
শোকের আবহের মধ্যেই নতুন এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন যে, মঙ্গলবার রাতে এক অভিযানে ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিবকেও হত্যা করা হয়েছে। যদি এই দাবি সত্য হয়, তবে গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের তৃতীয় কোনো হাই-প্রোফাইল নেতা ইসরায়েলি হামলার শিকার হলেন। তবে এই বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গত সোমবার ও মঙ্গলবার তেহরানে পৃথক বিমান হামলায় লারিজানি ও সোলাইমানি নিহত হন। আলী লারিজানি ছিলেন ইরানের অন্যতম ঝানু রাজনীতিবিদ, যিনি দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও পশ্চিমা বিশ্বের সাথে পরমাণু আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, গোলামরেজা সোলাইমানি ৬ বছর ধরে আইআরজিসির অভ্যন্তরীণ বাহিনী ‘বাসিজ’-এর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
শীর্ষ এই নেতাদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইরান তাদের ‘চরম প্রতিশোধ’ নেওয়া শুরু করেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত দুইজনের মৃত্যু এবং বহু লোক আহত হয়েছেন। বর্তমানে পুরো ইসরায়েল জুড়ে যুদ্ধের সাইরেন ও আতঙ্কে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সূত্র: আল জাজিরা, তাসনিম নিউজ এজেন্সি