ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণ লেবাননে নিহত অন্তত ৪৫

লেবাননজুড়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় গত দুই দিনে অন্তত ৪৫ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবানন থেকে শুরু করে রাজধানী বৈরুত পর্যন্ত বিস্তৃত এই হামলায় প্রাণ হারানোদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা এনএনএ (NNA) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ শেমালি (Burj Shemali), চিহিন (Chihine) এবং মারওয়াহিন (Marwahin) শহরে তীব্র গোলাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া জিজিন (Jezzine) জেলার আল-সারিরার আবাসিক এলাকায় রাতভর বিমান হামলায় অসংখ্য ঘরবাড়িতে ফাটল ধরেছে এবং জানালার কাঁচ চুরমার হয়ে গেছে। হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত খিয়াম (Khiam), বিনত জবেইল (Bint Jbeil) এবং মেফদুন (Mefdoun) এলাকাতেও দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে।

তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ দাবি করেছে যে, তারা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের ছয়টি মেরকাভা (Merkava) ট্যাংক ধ্বংস করেছে। হিজবুল্লাহর মতে, ইসরায়েলি সেনারা তাইবেহ (Taybeh) শহর দিয়ে দেইর সিরিয়ান (Deir Siryan) এলাকার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে তারা এই প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে এ পর্যন্ত অন্তত ৯৬৮ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি শিশু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে:

বাস্তুচ্যুত: ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে লেবাননে এ পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।

শিশুদের ঝুঁকি: এই বাস্তুচ্যুত জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই শিশু।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দপ্তর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, লেবাননের বেসামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলের এই নির্বিচার হামলা ‘যুদ্ধাপরাধের’ (War Crimes) শামিল হতে পারে।