মধ্যপ্রাচ্যে ইরান বনাম মার্কিন-ইসরাইল সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করায় উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুরুতে নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করলেও, ক্রমাগত ইরানি ড্রোন ও মিসাইল হামলার শিকার হয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন তেহরানকে 'শায়েস্তা' করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতাকে জোরালো সমর্থনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরব তাদের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিং ফাহাদ বিমান ঘাঁটি আমেরিকানদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে সম্মত হয়েছে। তায়েফে অবস্থিত এই ঘাঁটিটি ইরানি শাহেদ ড্রোন থেকে নিরাপদ দূরত্বে হওয়ায় মার্কিন বাহিনীর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া লোহিত সাগরের জেদ্দা বন্দরটি লজিস্টিক হাব হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা চলছে, যা হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নিয়ন্ত্রণের পাল্টাচাল হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে নিয়মিত ফোনালাপ রিয়াদের এই নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানিয়েছে তারা দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে ৯ মাস পর্যন্ত এই সংঘাত চালিয়ে যেতে ওয়াশিংটনের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করবে না। আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ স্পষ্ট করেছেন যে, তারা এই সংঘাত দ্রুত শেষ করার চেয়ে বরং একটি স্থায়ী সমাধান বা ইরানের আধিপত্য কমানোর পক্ষে।
তবে এই যুদ্ধ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে স্পষ্ট বিভাজনও দেখা দিয়েছে। কাতার ও ওমান এখনো উত্তেজনা প্রশমন এবং আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ করে ওমান সতর্ক করেছে যে, এটি 'আমেরিকার যুদ্ধ' এবং এতে জড়িয়ে পড়া আরব দেশগুলোর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। কাতারের জ্বালানি অবকাঠামোয় ইরানি হামলার ফলে তাদের গ্যাস উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক বার্নার্ড হায়কেল মনে করেন, সৌদি আরবের ঘাঁটিগুলোতে মার্কিন বাহিনীর প্রবেশাধিকার যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে দাহরান থেকে মার্কিন বিমান বাহিনীর কার্যক্রম শুরু হলে তা ইরানের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। শেষ পর্যন্ত, উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো এখন নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইরানের 'ব্ল্যাকমেইল' থেকে বাঁচতে এক কঠিন ভারসাম্যের কূটনীতি ও সামরিক প্রস্তুতির পথে হাঁটছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই।