মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং ক্রমবর্ধনশীল সংঘাত নিরসনে তুরস্ক এখন অত্যন্ত সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মিসরের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা শুরু করেছেন। একটি কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আঙ্কারা এই অঞ্চলে একটি বৃহত্তর যুদ্ধ এড়াতে জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, হাকান ফিদান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, মিসরের বদর আব্দেলাতি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের একটি সমাধান বের করা এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা করা।
যদিও এসব বৈঠকের সুনির্দিষ্ট ফলাফল বা আলোচনার বিস্তারিত বিষয়বস্তু এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি, তবে সূত্রগুলো বলছে যে, যুদ্ধের ভয়াবহতা কমানো এবং একটি শান্তিপূর্ণ পথ খোঁজার ওপরই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে একজন দক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের অবস্থান গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, এবং বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে আঙ্কারার এই তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের এই উদ্যোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো এখন সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। তবে মাঠপর্যায়ে ইসরায়েল, ইরান ও ইরাকে সংঘাত যেভাবে তীব্র আকার ধারণ করছে, তাতে তুরস্কের এই শান্তি প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সংঘাতকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়া থেকে রক্ষা করাই এখন বিশ্বনেতাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।