পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডব, গাজায় সংকট ত্রাণ 

বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা যখন ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন, তখন অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর নেমে এসেছে ভয়াবহ সহিংসতার ঢেউ। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও জমি দখলের ঘটনা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইরান যুদ্ধের অজুহাতে ঈদুল ফিতরের সময় মুসলিম মুসল্লিদের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে দেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। জেরুজালেমের পুরনো শহরের গেটের বাইরে নামাজ পড়ার চেষ্টাকালে ফিলিস্তিনিদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড ও শারীরিক শক্তি প্রয়োগ করে পুলিশ। এদিকে, গত ১৮ মার্চ পশ্চিম তীরের বেইত আউয়ায় রকেটের ধ্বংসাবশেষ পড়ে চার ফিলিস্তিনি নারী নিহত হন। উল্লেখ্য, ইসরায়েলি বসতিগুলোতে সাইরেন ও বোমা আশ্রয়কেন্দ্র থাকলেও ফিলিস্তিনি এলাকায় তা নেই।

জানা গেছে, নাবলুসের দক্ষিণে জালুদ ও কারিউত গ্রামে গত রোববার প্রায় ১০০ জন মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারী হামলা চালায়। তারা অন্তত ১০টি বাড়ি, ৫টি গাড়ি এবং একটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন পুড়িয়ে দেয়। এমনকি তারা মসজিদে আগুন দেওয়ারও চেষ্টা করে। এছাড়া নাবলুসের আশেপাশে জলপাই বাগান ধ্বংস এবং কৃষকদের ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এই উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের সমর্থন জানিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (PA) ক্ষমতাচ্যুত করার হুমকি দিয়েছেন।

এদিকে গাজা উপত্যকায় ত্রাণ প্রবেশের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে, ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সতর্ক করেছে যে, গাজার হাসপাতালগুলোতে ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো অমান্য করে গত কয়েক দিনে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় গাজা সিটি এবং খান ইউনিসে শিশু ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ বহু ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বি'সেলেম (B’Tselem)-এর তথ্যমতে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।