মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইরানের সঙ্গে আলোচনার দাবি করা হলেও তেহরানের রাজপথে বা সরকারি মহলে কূটনীতির কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। আল জাজিরার সংবাদদাতা মোহাম্মদ ভালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানে এখন আলোচনার চেয়ে যুদ্ধের দামামাই বেশি প্রকট। ইরানের সাধারণ মানুষ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে ট্রাম্পের এই দাবি নিয়ে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ বর্তমানে কোনো ধরনের আলোচনার অস্তিত্ব সরাসরি অস্বীকার করছে। গত কয়েকদিন ধরে তেহরানের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে সেখানে কূটনীতির কোনো জায়গা নেই, বরং সামরিক বাহিনী ইসরায়েল ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা ও ঘোষণা দিচ্ছে। জনসমক্ষে ইরান সরকার এটিই প্রচার করছে যে, এই মুহূর্তে কোনো মধ্যস্থতা বা আলোচনার প্রস্তাব তাদের কাছে অর্থবহ নয়। যদিও ইরানের প্রেসিডেন্ট এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, কিন্তু সেসব ফোনালাপের সারমর্ম গোপন রাখা হয়েছে।
ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যেকোনো আলোচনার টেবিলে বসার আগে তাদের কিছু সুনির্দিষ্ট এবং কঠিন গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তাদের প্রধান দাবিগুলো হলো:
১. এই যুদ্ধকে কেবল একটি 'সাময়িক যুদ্ধবিরতি' হিসেবে দেখলে হবে না, বরং একে স্থায়ীভাবে এবং সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
২. ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতির আর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না, এমন আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।
৩. যুদ্ধের ফলে ইরানের যে অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
মার্কিন প্রশাসন যে ১৫ দফা প্রস্তাবের কথা বলছে, তার বিপরীতে ইরান তাদের নিজস্ব কোনো দাবিনামা পেশ করেছে কি না, তা এখনো অস্পষ্ট। হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত অবস্থানেও কোনো পরিবর্তন আনেনি তেহরান। সব মিলিয়ে বর্তমানে ইরানে এক রহস্যময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এমনকি কারা এই আলোচনার সম্ভাব্য প্রতিনিধি বা কোথায় এই আলোচনা হচ্ছে, সে বিষয়ে খোদ ইরানিদের মধ্যেই কোনো ধারণা নেই। তেহরানের আকাশ এখন কূটনীতির বদলে যুদ্ধের মেঘে ঢাকা।