জোলকাদরকেই কেন ‘নিরাপত্তা প্রধান’ বানালেন মোজতবা?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় আলী লারিজনির মৃত্যুর পর ইরানের অন্যতম স্পর্শকাতর পদ ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ (SNSC)-এর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোহাম্মদ বাগের জোলকাদর। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অধীনে যুদ্ধের এই চরম সংকটময় সময়ে জোলকাদরের নিয়োগকে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কৌশলে বড় ধরণের পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ইরানের পক্ষ থেকে এই নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। আল-জাজিরার সংবাদদাতা সুহাইব আল-আসসা জোলকাদরকে একজন ‘হেভিওয়েট নিরাপত্তা ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

মোহাম্মদ জোলকাদর কোনো সাধারণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন। তিনি ইরানের শক্তিশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-র (IRGC) প্রথম প্রজন্মের সদস্য। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে তিনি সামরিক বাহিনীর প্রতিটি স্তরে কাজ করেছেন।

অভিজ্ঞতা: ইরান-ইরাক যুদ্ধের সম্মুখ সমরের বীর।

নেতৃত্ব: টানা ৮ বছর আইআরজিসি-র জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ এবং পরবর্তী ৮ বছর বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চীফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনীতি: ২০২৩ সাল থেকে তিনি দেশটির প্রভাবশালী উপদেষ্টা পরিষদ ‘এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিল’-এর সেক্রেটারি ছিলেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আলী লারিজনির মতো ঝানু রাজনীতিকের শূন্যতা পূরণ করা সহজ ছিল না। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেহরানের এমন একজনকে প্রয়োজন ছিল যার সরাসরি সামরিক কমান্ডের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কট্টরপন্থীরা মনে করছেন, জোলকাদর কেবল একজন আমলা নন, বরং একজন যুদ্ধ বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আক্রমণ মোকাবিলায় বেশি কার্যকর হবেন।

জোলকাদরের সামনের কঠিন চ্যালেঞ্জসমূহ
১. মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ: তেহরান ও ইসফাহানের পাশাপাশি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম ইরানে (বিশেষ করে পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশে) হামলার তীব্রতা বাড়ছে। এটি মোকাবিলা করাই হবে তার প্রথম কাজ।
২. অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা: যুদ্ধের সুযোগে দেশে বড় ধরণের বিদ্রোহের আশঙ্কা করছে তেহরান। গত কয়েক মাসে কয়েক হাজার নাগরিক নিহতের পর এখন বিদেশি গোয়েন্দাদের সহযোগিতার অভিযোগে শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
৩. হরমুজ প্রণালী ও জ্বালানি যুদ্ধ: হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করা জোলকাদরের বড় একটি কৌশল হতে পারে।
৪. শান্তি আলোচনা: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনা হলে, সেখানে জোলকাদরের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রস্তাবই পাস হবে না।

আল-জাজিরার আলী হাশেম তেহরান থেকে জানিয়েছেন, ‘জোলকাদরের নিয়োগ প্রমাণ করে যে ইরান তাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও বেশি সামরিক রূপ দিতে চাইছে। আলোচনার টেবিলেও এখন শেষ কথা বলবেন এই ঝানু কমান্ডার।’