মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা ও নৌ-চলাচলে বিঘ্ন ঘটার মাঝেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে ভারতের দুটি এলপিজি (LPG) ক্যারিয়ার।
রোববার (২৯ মার্চ) ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাহাজ দুটি বর্তমানে ভারতের পথে রয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, 'বিডব্লিউ টায়ার' (BW Tyr) এবং 'বিডব্লিউ এলম' (BW Elm) নামক এই দুটি ট্যাঙ্কার মোট ৯৪,০০০ মেট্রিক টন এলপিজি বহন করছে। এর মধ্যে 'বিডব্লিউ টায়ার' মঙ্গলবার মুম্বাই এবং 'বিডব্লিউ এলম' বুধবার নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মন্ত্রণালয় আশ্বস্ত করেছে যে, ওই অঞ্চলে অবস্থানরত সকল ভারতীয় নাবিক নিরাপদ আছেন এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতীয় পতাকাবাহী কোনো জাহাজে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পশ্চিম পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ১৮টি ভারতীয় জাহাজ এবং ৪৮৫ জন নাবিক অবস্থান করছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পর থেকেই এই অঞ্চলে অস্থিরতা বিরাজ করছে। ওই অভিযানে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ ১,৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরায়েল, জর্ডান এবং ইরাকসহ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালায়।
মার্চের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জাহাজের ভাড়া এবং তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, ভারত তার প্রয়োজনীয় জ্বালানি শক্তির প্রায় ৫০ শতাংশই উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৮০ বিলিয়ন ডলার। এই সংকটের মাঝেও ভারতের এলপিজি সরবরাহ সচল রাখা জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।