ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে স্টারমারের বৈঠকে খাদ্যমূল্য নিয়ে সতর্কতা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি যখন টালমাটাল, তখন কেবল জ্বালানি তেল নয় বরং ‘সার’ বা ফার্টিলাইজার সংকটে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অর্থনৈতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আজ ডাউনিং স্ট্রিটে ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার।

শিপিং বিশেষজ্ঞ এবং ‘ভেসপুচি মেরিটাইম’-এর প্রধান নির্বাহী লার্স জেনসেন বিবিসি রেডিও ফোর-এর এক অনুষ্ঠানে সতর্ক করে বলেছেন, ইরান কর্তৃক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত সারের প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশই আসে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। এই পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সারের বিশ্ববাজার এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

লার্স জেনসেনের মতে, সারের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে কৃষিখাতে, যা শেষ পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দেবে। তিনি বলেন, ‘সারের ঘাটতি মানেই উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি। এর ফলে বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও গরিব দেশগুলোতে খাদ্যের দাম দ্রুত গতিতে বাড়তে শুরু করবে, যা এক ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আজ লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে এই যুদ্ধের বহুমুখী প্রভাব নিয়ে আলোচনা করবেন। যুক্তরাজ্যসহ বিশ্ববাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের উপায় খোঁজা হবে এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব এক নজিরবিহীন খাদ্য ও জ্বালানি সংকটের কবলে পড়বে।