ইসরায়েলের তেল শোধনাগারে ইরানের হামলা

ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় কৌশলগত শহর হাইফার একটি তেল শোধনাগারে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার (৩০ মার্চ) এই হামলার পর শিল্পাঞ্চলটিতে অবস্থিত ওই শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে শোধনাগারটি থেকে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা গেছে।

ইরান দাবি করেছে, তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি শোধনাগারের মূল স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। তবে ইসরায়েলি ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী বাহিনী ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। তাদের দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করার সময় এর জ্বলন্ত ধ্বংসাবশেষ (Shrapnel) নিচে থাকা একটি জ্বালানি ট্যাংকারের ওপর পড়ায় আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

হামলার পরপরই হাইফা এবং এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় উচ্চশব্দে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা পরপর কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের এলাকা কেঁপে উঠলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই তেল শোধনাগারটি এর আগেও একাধিকবার ইরান ও হিজবুল্লাহর হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইরানের এই ধারাবাহিক হামলা দেশটির অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থাকে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।