যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগে প্রায় সাত বছর পর ইরানি তেল আমদানির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা হঠাৎ করেই অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে। ভারতমুখী একটি তেলবাহী জাহাজ মাঝপথে গন্তব্য পরিবর্তন করে চীনের দিকে রওনা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলবাণিজ্যের জটিল বাস্তবতা আবারও সামনে এসেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ‘পিং শান’ নামের একটি আফ্রাম্যাক্স শ্রেণির ট্যাংকার ইরানি অপরিশোধিত তেল নিয়ে ভারতের গুজরাটের ভাদিনারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। তবে যাত্রাপথেই জাহাজটি গন্তব্য বদলে চীনের ডংইয়িংয়ের দিকে মোড় নেয়।
জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্যে দেখা গেছে, স্বয়ংক্রিয় সনাক্তকরণ ব্যবস্থায় আগে ভাদিনার দেখালেও এখন নতুন গন্তব্য হিসেবে ডংইয়িং দেখানো হচ্ছে। যদিও এই তথ্য চূড়ান্ত নয় এবং যাত্রাপথে পরিবর্তিত হতে পারে।
কেপলারের বিশ্লেষক সুমিত রিতোলিয়া জানান, টানা কয়েকদিন ভারতমুখী থাকার পর গন্তব্যের কাছাকাছি এসে হঠাৎ করেই চীনের দিকে মোড় নিয়েছে জাহাজটি। তার মতে, অর্থ পরিশোধ সংক্রান্ত জটিলতা এ পরিবর্তনের প্রধান কারণ হতে পারে। আগে যেখানে ৩০ থেকে ৬০ দিনের ঋণ সুবিধা ছিল, এখন বিক্রেতারা আগাম বা দ্রুত অর্থ পরিশোধের শর্ত আরোপ করছে, যা অনেক ক্রেতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এই চালানটি ভারতে পৌঁছালে ২০১৯ সালের পর এটিই হতো ভারতের প্রথম ইরানি অপরিশোধিত তেল আমদানি। সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল হওয়ার পর ভারতীয় শোধনাগারগুলো সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল কেনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছিল।
ভাদিনারে রাশিয়ার রোসনেফট-সমর্থিত নায়ারা এনার্জির বড় শোধনাগার রয়েছে, যেখানে ইরানি ‘লাইট’ ও ‘হেভি’ গ্রেডের তেল প্রক্রিয়াজাত করা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক। তবে ২০১৮ সালে নিষেধাজ্ঞা জোরদার হওয়ার পর ২০১৯ সালের মে থেকে ভারত ইরানি তেল আমদানি বন্ধ করে দেয় এবং বিকল্প হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উৎসের দিকে ঝুঁকে পড়ে। সূত্র: এনডিটিভি