নিজেদের এই ইউরেনিয়ামের মজুত স্থানান্তরের ব্যাপারে ‘আদর্শগতভাবে’ রাজি হয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে গতকাল রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
গত শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক করতে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি তিনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঘোষণা দেওয়ার পর একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুত স্থানান্তর করতে ‘আদর্শগতভাবে’ রাজি হয়েছে ইরান, তবে কোথায় ও কীভাবে এই মজুত স্থানান্তর করা হবে সে সম্পর্কে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি প্রতিনিধিদের পরবর্তী বৈঠকগুলোতে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কয়েক দিন আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছিলেন যে ইরানের ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে স্থানান্তর করা হবে না। তিনি এই বক্তব্য দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে ইউরেনিয়াম স্থানান্তর ইস্যুতে ইরানের ‘আদর্শগত’ সম্মতিকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বাঁক-বদল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
মূলত যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের প্রধান কারণ ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত। ২০২৫ সালের ৬ জুন এ ইস্যুতে একটি বিবৃতি দিয়েছিল জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ বিষয়ক অঙ্গসংস্থা আইএইএ। সেই বিবৃতির তথ্য অনুসারে, ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত আছে এবং এই ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মান ৬০ শতাংশ। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, ইরান যদি বিশুদ্ধতার মান ৯০ শতাংশে উন্নীত করে- তাহলে এই ইউরেনিয়াম দিয়ে একের পর এক পরমাণু বোমা বানানো সম্ভব।
আইএইএ এই বিবৃতি দেওয়ার পরের সপ্তাহে ইরানের পরমাণূ প্রকল্প, সেনাবাহিনী ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল; এক সময় যোগ দেয় মার্কিন সেনাবাহিনীও।
১২ দিন ধরে চলা সেই সংঘাতে ইরানের পরমাণু প্রকল্পের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, নিহত হয়েছিলেন ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর বেশ কয়েক জন কর্মকর্তা এবং কয়েক জন শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী। তবে সেই অভিযানে ইরানের ইউরেনিয়ামের নাগাল পায়নি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল।
ইরান অবশ্য বরাবরই পরমাণু প্রকল্পের আড়ালে বোমা তৈরির প্রচেষ্টার কথা অস্বীকার করে আসছে, তবে দেশটির পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে প্রায় দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে বিরোধ চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এই বিরোধের জেরেই ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ। সূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে
ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তর করবে না ইরান
শান্তি চুক্তি নিয়ে ঘন ঘন অবস্থান পাল্টাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ক্ষুব্ধ ইরান