এক দিনে দুই মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের

ইরান দাবি করেছে, গতকাল শুক্রবার পৃথক দুটি ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি এ-১০ মডেলের বিমান, যা হরমুজ প্রণালির কাছে পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরানের মধ্যাঞ্চলে এফ-১৫ই মডেলের আরেকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান শুক্রবার অন্তত পাঁচটি মার্কিন হেলিকপ্টারে আঘাত হেনেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘না, মোটেও না। এটা তো যুদ্ধ।’

এর আগে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ইরানের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের এ-১০ মডেলের একটি যুদ্ধবিমানে আঘাত করে। পরে বিমানটি হরমুজ প্রণালির কাছে বিধ্বস্ত হয়।

বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, ইরানে বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছিল একটি এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমান। সেটিও হামলার শিকার হয়েছে।

তবে ইরানের দাবি করা বিমানটি এবং সিবিএসের উল্লিখিত বিমানটি একই কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উদ্ধার অভিযানেও হামলা

সিবিএসের প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, বিধ্বস্ত এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দুই আরোহীর (পাইলটের) একজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও দুটি মার্কিন বিমান হামলার মুখে পড়েছে। এ সময় এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমানটি আক্রান্ত হলে পাইলট সাগরে ঝাঁপ দেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে থাকা দুটি হেলিকপ্টারের একটিতে ছোট অস্ত্র থেকে গুলি চালানো হয়েছে। এতে হেলিকপ্টারটিতে থাকা কয়েকজন ক্রু আহত হন। তবে সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। এফ-১৫ই বিমানের দ্বিতীয় আরোহীর (পাইলটের) খোঁজে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।

নতুন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমান ভূপাতিতের দাবি

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন শুক্রবার দেওয়া এক ভাষণে বলেন, নতুন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে।

ইব্রাহিম জুলফাগারি বলেন, ইরানের নিজস্ব ‘নতুন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ ব্যবহার করে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে।

ইরানের এ কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর এ দাবি মিথ্যা। মার্কিন বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি তার প্রমাণ।

ইব্রাহিম জুলফাগারি বলেন, ‘কেশম দ্বীপের দক্ষিণে একটি উন্নত শত্রু যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। সেটি কেশম ও হেনগাম দ্বীপের মাঝামাঝি জলসীমায় বিধ্বস্ত হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের যে যুদ্ধবিমানটি তাদের নিজস্ব “নতুন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা” ব্যবহার করে ভূপাতিত হয়েছে, সেটি সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি ইব্রাহিম জুলফাগারি। তবে তার বর্ণনা থেকে ধারণা করা যায়, তিনি সম্ভবত মার্কিন এ-১০ মডেলের যুদ্ধবিমানের কথাই উল্লেখ করেছেন। কারণ, এই বিমানটি হরমুজ প্রণালির নিকটেই বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা