মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া ‘চূড়ান্ত সময়সীমা’র মুখে এক নজিরবিহীন বার্তা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, দেশ রক্ষায় তিনি নিজে এবং অন্তত ১ কোটি ৪০ লাখ ইরানি নাগরিক ‘জীবন উৎসর্গ’ করতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।
পোস্টে মাসুদ পেজেশকিয়ান লেখেন, ‘১ কোটি ৪০ লাখ লক্ষ্যমাত্রার অধিক সাহসী ইরানি এখন পর্যন্ত দেশের প্রতিরক্ষায় নিজেদের জীবন বিসর্জন দেওয়ার প্রস্তুতি ঘোষণা করেছেন। আমিও ইরানের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি। আমি আজ আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইরান তাদের শীর্ষ নেতাদের হারিয়েছে। মার্কিন-ইসরায়েলি বিশেষ অভিযানে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং প্রভাবশালী নিরাপত্তা সচিব আলী লারিজানি।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই যুদ্ধে ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৭৬ জন নিহত এবং ২৬ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক আল্টিমেটামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার (আজ) রাত ৮টাই চূড়ান্ত সময়সীমা। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না।
ট্রাম্পের দাবি, সংঘাত নিরসনে ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছে যা উল্লেখযোগ্য, তবে তা যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, ‘তারা একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে কিন্তু সেটি পুরোপুরি সন্তোষজনক নয়। তারা জানে তাদের ঠিক কী করতে হবে। তারা যদি সেটি করে, তবে যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হতে পারে।’
ইরান কি ট্রাম্পের শর্ত মেনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে, নাকি ১ কোটি ৪০ লাখ স্বেচ্ছাসেবীর সেই ‘জীবন উৎসর্গ’ করার পথে হাঁটবে-তা নিয়ে এখন পুরো বিশ্ব চরম উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করছে।’ সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, আল জাজিরা।