হরমুজ প্রণালি

বিশ্ব অর্থনীতি জিম্মি করে রেখেছে ইরান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ হিসেবে ঘোষণা করলেও বিশ্লেষকরা একে ভিন্নভাবে দেখছেন। তাদের মতে, এই যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো মূলত বিশ্ব অর্থনীতিতে ইরানের শক্তিশালী প্রভাব এবং কৌশলগত অবস্থানকে স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে এক প্রকার জিম্মি করে ফেলেছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) যুদ্ধবিরতির খবরের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১৫-২০ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, সংকট এখনো কাটেনি। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ নিল শেয়ারিং সতর্ক করে বলেছেন, বাজার স্থিতিশীল হওয়া নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতির ওপর। 

ইরান গত ছয় সপ্তাহ ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রুটে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এবং সারের তিন-চতুর্থাংশ রপ্তানি হয়। এই অবরোধের ফলে এশিয়ায় জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে এবং ফিলিপাইনে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রেও বিদ্যুতের দাম এবং গ্যাসোলিনের দাম বেড়েছে। 

অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের কৌশলবিদ ড্যান আলামারিউ মনে করেন, ইরান এই প্রণালীটিকে একটি ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’র হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সফলভাবে যুদ্ধবিরতি আদায় করে নিয়েছে।

তাছাড়া, অবরোধের মধ্যেও ইরান বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে। ওয়াশিংটন জ্বালানি সংকট কমাতে ইরানের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে নেওয়ায় দেশটি প্রতিদিন প্রায় ১৮.৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে, তাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দামে। বর্তমানে ইরান ও ওমান এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ‘ট্রানজিট ফি’ আদায়ের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে দরকষাকষির মূল অস্ত্র বানিয়ে ইরান বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নিজের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।