বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিজেদের দুটি যুদ্ধজাহাজ অতিক্রম করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মার্কিন সেনাবাহিনীর এমন দাবি সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ উল্লেখ করে তা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে ইরান।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে নৌবাহিনীর দুই যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসন’ এবং ‘ইউএসএস মাইকেল মারফি’ হরমুজ প্রণালি পার হয়ে আরব উপসাগরে প্রবেশ করেছে।
সেন্টকমের ভাষ্যমতে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) কর্তৃক পেতে রাখা সামুদ্রিক মাইন থেকে হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করা এবং বাণিজ্য তরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।
মার্কিন নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা একটি নতুন নিরাপদ পথ তৈরির কাজ শুরু করেছি। খুব শিগগিরই এটি সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।’
তবে শনিবার ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের এক মুখপাত্র মার্কিন দাবিকে ‘জোরালোভাবে অস্বীকার’ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মার্কিন জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে- সেন্টকমের এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা কেবল ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতেই রয়েছে।’
পাশাপাশি ইরানের এলিট ফোর্স আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, বিনা অনুমতিতে কোনো দেশের সামরিক জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করলে তার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যার ওপর দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর ইরান কার্যত এই প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে পাকিস্তানভিত্তিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যাবিলিটি ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মারিয়া সুলতান বলেন, ‘ইরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবহরের অবাধ চলাচল কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’ সূত্র: আল জাজিরা।