আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর সাথে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যেও সন্তোষজনক হারে জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে ইরান। দেশটির তেলমন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি জানান, সংঘাতময় পরিস্থিতির মাঝেও ইরানের জ্বালানি রপ্তানি খাত সচল রয়েছে।
ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকনেজাদ বলেন, ‘গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্চ এবং এপ্রিলের এই সময় পর্যন্ত আমরা যে পরিমাণ তেল বিক্রি করেছি, তা অত্যন্ত সন্তোষজনক। প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও বৈশ্বিক বাজারে ইরানি তেলের চাহিদা কমেনি।’
তেলমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যার সুফল ইরান পাচ্ছে। তিনি প্রস্তাব করেন, তেল বিক্রি থেকে অর্জিত এই বিপুল আয়ের একটি বড় অংশ যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অভ্যন্তরীণ তেল ও গ্যাস শিল্প পুনর্গঠনে ব্যয় করা উচিত। মূলত মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের বেশ কিছু জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দ্রুত মেরামতের ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়। ইরান বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করায় দেশটির তেলের বাজারের দিকে এখন সারা বিশ্বের নজর। তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী তেলের সন্তোষজনক বিক্রি চলমান থাকলে তা তেহরানের অর্থনীতিকে যুদ্ধের চাপ মোকাবিলায় বড় শক্তি যোগাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আল-জাজিরা ও ফার্স নিউজ।