ইরান ‘অপ্রতিসম রণকৌশলে’ শত্রুরা কুপোকাত: স্পিকার গালিবাফ

‘অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ার’ বা অপ্রতিসম রণকৌশলের জোরেই আর্থিক ও সামরিক সম্পদে এগিয়ে থাকা শত্রুপক্ষকে সফলভাবে প্রতিহত করেছে ইরান।

গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) স্থানীয় সময় রাতে সম্প্রচারিত এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমনভাবে একটি অপ্রতিসম যুদ্ধ লড়েছি, যে শত্রু পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। শত্রুর কাছে অর্থ ও সম্পদ ছিল, কিন্তু পরিকল্পনার দিক থেকে তারা সঠিকভাবে কাজ করতে পারেনি। তারা কৌশলগত ভুল করে। আমাদের জনগণকে নিয়ে তারা যেমন ভুল হিসাব করেছে, তেমনি নিজেদের সামরিক পরিকল্পনাতেও ভুল করেছে।’

ইরানি স্পিকার আরও বলেন, ‘সামরিক শক্তির দিক থেকে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী নই। তাদের কাছে বেশি অর্থ, সরঞ্জাম ও সম্পদ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে তারা বহু আগ্রাসন চালিয়েছে বলে তাদের অভিজ্ঞতাও আমাদের চেয়ে বেশি।’

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেবল বস্তুগত সুবিধা বিজয় নিশ্চিত করে না। গালিবাফের ভাষায়, ‘সরঞ্জাম, সম্পদ ও অর্থ যুদ্ধ ও বিজয়ে প্রভাব ফেলে ঠিক, কিন্তু সব সময় তা নির্ধারক নয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরানের সাফল্যের কারণ হিসেবে কৌশলগত প্রজ্ঞার কথা উল্লেখ করেন গালিবাফ। তার মতে, ‘আমরা নিজেদের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে এমনভাবে অপ্রতিসম যুদ্ধ করেছি যে শত্রু পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। শত্রুর কাছে অর্থ ও সম্পদ ছিল, কিন্তু পরিকল্পনার ক্ষেত্রে তারা সঠিকভাবে কাজ করতে পারেনি।’

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের আগ্রাসনের মুখে ইরান অপ্রতিসম রণকৌশল দিয়েই শক্ত অবস্থান গড়েছে। প্রথম হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে তারা বিশ্ব বাণিজ্যে বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে। ইরানে হাজারও বোমা ফেলেও হরমুজ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কিছুই করতে পারেনি। উল্টো তাদের আগ্রাসনের ফলে হরমুজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিব্রত হতে হয়েছে তাদের।

এ ছাড়া লেবানন এবং ইরাকে প্রক্সিগোষ্ঠীদের যুদ্ধে জড়ানোও ইরানের অপ্রতিসম রণকৌশলের অন্যতম উদাহরণ। এতে করে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে একই সঙ্গে কয়েক ফ্রন্টে লড়তে হচ্ছে। আর যুদ্ধ দীর্ঘসময় খুললে নিশ্চিতভাবেই ইয়েমেনে আরেকটি ফ্রন্ট খুলবে। হুতি বিদ্রোহীরা যুদ্ধে জড়ালে বাল আল মানদেব প্রণালিও বন্ধ হয়ে যাবে। তাতে বিশ্ব বাণিজ্যে নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা দেবে।

সূত্র: প্রেস টিভি