ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেওয়ার ছয় সপ্তাহ পার হলেও এখনো জনসমক্ষে অনুপস্থিত, যা দেশটির শাসনব্যবস্থার ভেতরের বাস্তবতা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই অনুপস্থিতিই উল্টোভাবে শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার কৌশল হিসেবে কাজ করতে পারে।
তার বাবা প্রয়াত আলি খামেনি ছিলেন দৃশ্যমান ও সক্রিয় নেতৃত্বের প্রতীক, যিনি নিয়মিত ভাষণ ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় সরাসরি উপস্থিত থাকতেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনির বক্তব্য কেবল লিখিত বার্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট কিংবা কৃত্রিমভাবে তৈরি ভিডিওর মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, যা তার শারীরিক অবস্থান ও সক্ষমতা নিয়ে আরও রহস্য তৈরি করেছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলার সময় তিনি আহত হয়েছেন এবং এখনো সরাসরি জনসমক্ষে আসার মতো অবস্থায় নেই। যদিও অন্য সূত্র বলছে, তিনি অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখছেন, তবে বাস্তবে তার সক্রিয়তা কতটা, তা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্লেষক আলি ফায়েজ মনে করেন, বর্তমান কাঠামোতে খামেনির ভূমিকা অনেকটাই প্রতীকী হয়ে উঠেছে, যেখানে তাকে ব্যবহার করা হচ্ছে বড় সিদ্ধান্তের অনুমোদনের জন্য, কিন্তু আলোচনার কৌশলগত দিকগুলো নির্ধারণ করছেন অন্য কর্মকর্তারা। তার ভাষায়, নেতৃত্বের এই অদৃশ্য উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে আলোচকদের জন্য সমালোচনা এড়ানোর একটি ঢাল হিসেবেও কাজ করছে।
এদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ ও আব্বাস আরাঘচি–এর মতো নেতারা সামনের সারিতে উঠে এসেছেন, যারা একদিকে কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ শক্ত ঘাঁটিকেও সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই দ্বৈত চাপ তাদের অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে নতুন ধরনের নেতৃত্ব এসেছে এবং আলোচনায় থাকা ব্যক্তিরা আগের তুলনায় ভিন্ন। তবে বাস্তবে এই নেতৃত্ব কাঠামো কতটা সুসংহত, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার অস্বচ্ছতা, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ চাপ মিলিয়ে এমন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে দৃশ্যমান নেতৃত্বের অনুপস্থিতি বরং একটি কৌশলগত সুবিধায় পরিণত হয়েছে, যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু দায় কার, তা স্পষ্ট নয়। সূত্র: সিএনএন