ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত একটি স্কুলের ধ্বংসস্তূপ থেকে বহু মরদেহ উদ্ধার হলেও সাত বছর বয়সী একমাত্র শিশু মাকান নাসিরি-এর কোনো খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি, যা ঘটনাটিকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।
ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে হামলার প্রথম দিনেই দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাবে অবস্থিত একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। স্কুলটি একটি সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি হওয়ায় সেটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলার সময় স্কুল প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় মানুষজন উপস্থিত ছিলেন। প্রথম বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পরই দ্বিতীয় দফা হামলা হয়, যা উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পর্যন্ত দেয়নি।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ ঘটনায় মোট ১৫৬ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ১২০ জনই শিক্ষার্থী। নিহতদের মধ্যে শিক্ষক, অভিভাবক, বাসচালকসহ আরও কয়েকজন ছিলেন। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা অধিকাংশ মরদেহ শনাক্ত করতে পারলেও মাকান নাসিরির কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাননি, এমনকি ডিএনএ পরীক্ষাতেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
প্রায় সাত সপ্তাহ ধরে অনুসন্ধান চালানোর পর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তার কোনো দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম সমাপ্ত করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা হামলার পরপরই স্কুলে ছুটে যান, কিন্তু সেখানে গিয়ে কেবল ধ্বংসস্তূপ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাননি।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে শিশুটির একটি জুতা এবং একটি ক্ষতিগ্রস্ত সোয়েটার পাওয়া যায়, যা তার পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন। তবে এর বাইরে আর কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ওই জুতাটি একটি বাক্সে সংরক্ষণ করে স্থানীয় মসজিদে রাখা হয়েছে, যা শিশুটির স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা