মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের নতুন নেতৃত্বকে 'অস্থির' ও 'বিভক্ত' বলে আখ্যা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই তেহরান থেকে উল্টো বার্তা দেওয়া হয়েছে দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব একসুরে ঐক্যবদ্ধ। গভীর রাতে দেশজুড়ে মোবাইল গ্রাহকদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় এই অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।
এই বার্তাটি ছিল একটি 'সম্মিলিত বার্তা', যা পাঠানো হয় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার বাকের গালিবাফ, বিচার বিভাগের প্রধানসহ উচ্চপর্যায়ের নেতাদের পক্ষ থেকে। এতে সরাসরি বলা হয়, বাইরের শক্তির বিভেদ সৃষ্টির প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। বার্তায় উল্লেখ করা হয়, 'ইরানে কট্টরপন্থী বা মধ্যপন্থী বলে কিছু নেই, আমরা সবাই ইরানি, সবাই বিপ্লবের অংশ... এক জাতি, এক পথ।'
গত এক সপ্তাহে ইরানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে কিছু কৌশলগত মতপার্থক্যের আভাস পাওয়া গেলেও, বিশেষ করে ইসলামিক রেভলুশ্যনারি গার্ড কোর-ঘনিষ্ঠ প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান ফুটে উঠেছিল, তবে তা বড় নীতিগত বিভাজনে রূপ নেয়নি।
তেহরানে অবস্থানরত পর্যবেক্ষকদের মতে, বাস্তবে ইরানের ভেতরে মতভেদ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে শীর্ষ পর্যায়ে একটি সুস্পষ্ট ঐকমত্য রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি বা হরমুজ প্রণালি-এর মতো ইস্যুতে তাদের অবস্থান কঠোর ও নির্দিষ্ট।
সাম্প্রতিক সংঘাত, উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও ধর্মীয় নেতাদের হত্যাকাণ্ড এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই ইরানের ক্ষমতার কাঠামো আরও জটিল হয়েছে। এখন সেখানে একাধিক সিদ্ধান্তগ্রহণকারী সক্রিয়, কেউ তুলনামূলক বাস্তববাদী, কেউ কঠোর অবস্থানের পক্ষপাতী। সূত্র: বিবিসি