ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযানে যথাযথ সহায়তা না করায় ন্যাটো মিত্রদের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে, স্পেনকে ন্যাটো জোট থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার একটি প্রস্তাব নিয়ে পেন্টাগনে আলোচনা চলছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্স পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইলের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, পেন্টাগনের ওই অভ্যন্তরীণ নোটে ইরান যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ব্যবহার, ঘাঁটি সুবিধা এবং সামরিক বিমান চলাচলের অনুমতি (ABO) দিতে মিত্র দেশগুলোর অনীহার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পেন্টাগন মনে করে, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর জন্য এসব সহযোগিতা হলো ‘ন্যূনতম ভিত্তি’। যারা এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবছে ওয়াশিংটন।
প্রস্তাবিত শাস্তিমূলক পদক্ষেপসমূহ:
১. স্পেনকে ন্যাটো থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা।
২. ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে ‘অসহযোগী’ দেশগুলোর কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া।
৩. যুক্তরাজ্যের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সমর্থন পুনর্বিবেচনা করা।
ট্রাম্পের মেজাজ ও ন্যাটোর ভবিষ্যৎ
হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে মিত্রদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত নৌ-সহায়তা না পেয়ে শুরু থেকেই বিরক্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইতোমধ্যেই ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রেখেছেন। পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমনটি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের জন্য অনেক কিছু করলেও বিপদে তাদের পাশে পায়নি। আমাদের মিত্ররা যেন শুধু ‘কাগজের বাঘ’ হয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে আমরা সব ধরণের বিকল্প নিয়ে কাজ করছি।’
ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত স্পেন। দেশটি শুরুতেই ঘোষণা দিয়েছিল যে, তাদের আকাশসীমা বা ঘাঁটি কোনোভাবেই মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না। স্পেনের এই সাহসী সিদ্ধান্তই মূলত ট্রাম্প প্রশাসনকে ক্ষুব্ধ করেছে। যদিও স্পেনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে-মাদ্রিদ একে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর মার্কিন হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
স্পেনকে বরখাস্তের এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ন্যাটোর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতে কোনো সদস্যপদ স্থগিত বা কাউকে সরাসরি বরখাস্ত করার কোনো আইনি বিধান নেই। ফলে পেন্টাগনের এই প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র: রয়টার্স
ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যেতে স্লোভেনিয়ায় গণভোটের পরিকল্পনা
হরমুজ প্রণালি অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই ন্যাটো