মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে এবার ‘প্রত্যাশার চেয়েও ভয়াবহ’ পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিলো ইরান। দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের বর্তমান ‘বুদ্ধিদীপ্ত নীরবতা’ বা সংযমকে কোনোভাবেই দুর্বলতা ভাবা উচিত হবে না। শত্রুপক্ষ কোনো ভুল হিসাব-নিকাশ করলে এই দৃশ্যমান সংযম যেকোনো মুহূর্তে ‘নারকীয় ঝড়ে’ রূপ নিতে পারে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA)-র এক প্রতিবেদনে এই কঠোর সতর্কবার্তার তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘যুদ্ধবাজ ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী শত্রু’ যদি নতুন করে কোনো আগ্রাসন চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে ইরান এমন এক জবাব দেবে যা হবে শত্রুর কল্পনার অতীত। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য পদক্ষেপের দিকে ইঙ্গিত করেই তেহরান এই প্রচ্ছন্ন হুমকি দিল বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর চেষ্টা চললেও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি। প্রথম দফার সংলাপ কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফার জন্য পাকিস্তান তোড়জোড় চালালেও দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে তা ঝুলে আছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন অবস্থানকে ‘চরমপন্থী’ বলে মনে করছে ইরান। অন্যদিকে, ইরানের কিছু দাবিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলছে আমেরিকা। ফলে এই মুহূর্তে দুই দেশ সরাসরি টেবিলে বসতে রাজি নয়।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ওমান থেকে ফেরার পথে আজ রোববার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির। তার এই সফরের ওপর মধ্যস্থতার ভবিষ্যৎ অনেকখানি নির্ভর করছে। যদিও তার প্রতিনিধি দলটি পরামর্শ নেওয়ার জন্য তেহরানে ফিরে গেছে, তবে ইসলামাবাদে আলোচনা চলাকালে তারা পুনরায় যোগ দিতে পারেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা সফল হবে না কি সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নেবে- তা অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে।