দীর্ঘ ১৪ বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে সিরিয়ার আল-ইয়ারুবিয়া (al-Yarubiyah) সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে পুনরায় জ্বালানি তেল রপ্তানি শুরু করেছে ইরাক। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ থাকায় বিকল্প পথ হিসেবে এই রুটটি বেছে নিয়েছে বাগদাদ।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানার (SANA) বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭০টি ইরাকি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কারের একটি বিশাল বহর আল-ইয়ারুবিয়া সীমান্ত পার হয়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করেছে। এই তেলের চালানটি সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত বানিয়াস (Baniyas) শোধনাগারের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে।
আল-ইয়ারুবিয়া ক্রসিংয়ের সিরীয় কর্মকর্তা ফেরাস রুস্তম বলেন, ১৪ বছর পর এই সীমান্ত খুলে দেওয়া ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এটি কেবল জ্বালানি নয়, বরং বাণিজ্যিকভাবেও দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব তৈরিতে সহায়ক হবে।
২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরাকি অংশে ‘রাবিয়া’ নামে পরিচিত এই ক্রসিংটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে এটি জঙ্গি গোষ্ঠী আইসিল (ISIL) দখল করে নেয় এবং পরে কুর্দি বাহিনীর সহায়তায় এর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা হয়। বর্তমানে ইরান উপকূলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় ইরাক চরম সংকটে পড়েছে। বিশ্ববাজারের বিকল্প পথ হিসেবে সিরিয়ার এই রুটটি এখন ইরাকের জন্য লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরাকের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো মার্কিন অবরোধ ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেদের অর্থনীতি সচল রাখতে নতুন আঞ্চলিক জোট ও বিকল্প পথ তৈরিতে মনোযোগী হচ্ছে।