ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান পারমাণবিক সংকট নিরসনে কারিগরি মতপার্থক্য কমিয়ে আনা সম্ভব হলেও, প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তেহরানের তীব্র আস্থাহীনতা। সোফান সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেনেথ ক্যাটজম্যান আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।
ক্যাটজম্যানের মতে, পর্দার আড়ালে উভয় পক্ষই বর্তমানে নির্দিষ্ট প্রস্তাব ও ভাষা নিয়ে নিবিড়ভাবে মতবিনিময় করছে। তিনি বলেন, পারমাণবিক ইস্যুগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা এখন আর খুব বেশি বড় নয়। যদিও কিছু উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়ে গেছে, তবে আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো কমিয়ে আনা সম্ভব। মূল সমস্যা হলো, ইরান ট্রাম্প এবং যুক্তরাষ্ট্রকে চূড়ান্তভাবে অবিশ্বাস করে। যতক্ষণ না পর্যন্ত নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ তারা পূর্ণাঙ্গ আলোচনায় যেতে ইচ্ছুক নয়।
এই প্রবীণ বিশ্লেষক সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই আস্থার সংকট পরিস্থিতিকে আরও বড় সামরিক উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিতে পারে। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভালো করেই জানেন যে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভাঙা তার প্রশাসনের জন্য কতটা জরুরি। ইরান যতক্ষণ প্রণালির কর্তৃত্ব ছাড়ছে না এবং যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ অবরোধ বহাল রাখছে, ততক্ষণ এই অচলাবস্থা কাটবে না
ক্যাটজম্যান আরও জানান, যদিও উভয় পক্ষই বর্তমান পরিস্থিতির মন্থর গতিতে চরম হতাশ, তবুও নিকট ভবিষ্যতে কোনো পক্ষই আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে বলে মনে হয় না। তেহরান যেখানে অবরোধ তুলে নেওয়ার ওপর সবকিছুর ভিত্তি স্থাপন করেছে, ওয়াশিংটন সেখানে নৌপথের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মূলত এই আস্থার সংকটের কারণেই শান্তি প্রক্রিয়াটি বারবার লক্ষ্যচ্যুত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে ১৪ দফা শান্তি পরিকল্পনা দিলো ইরান