লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৪১, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা তুঙ্গে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর ৫০টি পৃথক বিমান হামলায় অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন। এই ভয়াবহ হামলার পর তথাকথিত যুদ্ধবিরতি এখন পুরোপুরি খাদের কিনারায়। অন্যদিকে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি এই সংকটকে দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

লেবানন সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলার তীব্রতা গত কয়েকদিনের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। একদিনেই ৪১ জনের মৃত্যু মার্কিন সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ইসরায়েল দাবি করলেও বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হতে পারে। তিনি সরাসরি বলেন, "আমাদের হয়তো আবারও যুদ্ধ শুরু করার প্রয়োজন পড়তে পারে।" তার এই মন্তব্য এবং ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধকে তেহরান "অসহনীয় সামরিক সম্প্রসারণ" হিসেবে অভিহিত করেছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন অবরোধের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি সরাসরি যুদ্ধের শামিল। এরই মধ্যে তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং ড্রোন ও নজরদারি বিমান প্রতিহত করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এই সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। এদিকে গাজামুখী ত্রাণবাহী 'গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা' থেকে আটক ১৭৫ জন কর্মীকে গ্রিসের কাছে হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: টাইমস নাও ওয়ার্ড