যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং মার্কিন নৌ-অবরোধের জোড়া ধাক্কায় ইরানের অর্থনীতি এখন খাদের কিনারায়। গত এক সপ্তাহে খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স এবং অটোমোবাইলসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অবিশ্বাস্যভাবে বেড়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটির প্রায় ৯ কোটি জনগণের ওপর।
ইরানের জাতীয় মুদ্রা 'রিয়াল'-এর মান খোলা বাজারে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান দাঁড়িয়েছে ১৮ লক্ষ ৪০ হাজার। মুদ্রার এই নজিরবিহীন পতনের ফলে বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিক্রেতারা পণ্য মজুত করছেন এবং ক্রেতারা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় প্রয়োজনীয় জিনিস এখনই কিনে ফেলার চেষ্টা করছেন। সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে অনেক বিক্রেতা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ গতিতে দাম বাড়াচ্ছেন।
বিলাসবহুল ও আমদানিকৃত পণ্যের বাজারে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। যুক্তরাষ্ট্রে যে 'আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স' ১,২০০ ডলারে পাওয়া যায়, তেহরানের বাজারে তার দাম ঠেকেছে প্রায় ২,৭৫০ ডলারে (৫০০ কোটি রিয়াল)। এমনকি ইরানে উৎপাদিত পিউজো ২০৬ মডেলের গাড়ির দামও ৩০০ কোটি রিয়াল ছাড়িয়েছে। আমদানিকৃত গাড়ির দাম প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এই পরিস্থিতির জন্য ব্যবসায়ীদের ‘মনস্তাত্ত্বিক কারসাজি’কে দায়ী করলেও সাধারণ মানুষ বলছে ভিন্ন কথা।
বর্তমানে ইরানে মাসিক ন্যূনতম মজুরি মাত্র ১৭ কোটি রিয়াল (৯২ ডলারের কম), যা দিয়ে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকার নতুন বছরে মজুরি ৬০ শতাংশ বাড়ালেও মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় তা নগণ্য। এর ওপর টানা ৬৪ দিন ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ডিজিটাল অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে এক চরম মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে পারস্য উপসাগরের এই দেশটি। সূত্র: আল জাজিরা