হরমুজ প্রণালী ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ এবার নতুন মোড় নিয়েছে। ইরান সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো ‘অবিবেচনাপ্রসূত’ পদক্ষেপ নেওয়া হলে আমিরাতের সব ধরনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির একটি উচ্চপদস্থ সামরিক সূত্র এই হুমকি দিয়েছে। মূলত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমিরাতের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা এবং আমিরাত উপকূলে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতেই তেহরান এই কঠোর বার্তা দিল।
উপসাগরীয় অঞ্চলের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। বার্তা সংস্থা এপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসরায়েলের এক সামরিক কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বর্তমানে ‘উচ্চ সতর্কাবস্থায়’ রয়েছে। ইরান বা তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো (যেমন হিজবুল্লাহ) এই অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিতে পারে এমন আশঙ্কায় সীমান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সতর্ক থাকলেও দেশটির সাধারণ নাগরিকদের জন্য এখনই নতুন কোনো কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়নি। সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জনসমাগমের ওপর বিদ্যমান বিধিনিষেধ বা যুদ্ধকালীন নির্দেশনায় আপাতত কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, একদিকে ট্রাম্পের ‘মুছে দেওয়ার’ হুমকি এবং অন্যদিকে আমিরাত ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়ংকর পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমিরাতের তেল শোধনাগারে হামলার পর ইরানের এই নতুন হুমকি আঞ্চলিক কূটনীতিকে কার্যত অচল করে দিয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান