অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং ভূমি দখল বন্ধে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের দাবির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবিকে ‘হতাশাজনক কিন্তু আশ্চর্যজনক নয়’ বলে বর্ণনা করেছেন।
ড্যানন অভিযোগ করেন যে, জাতিসংঘে আবারও দ্বিমুখী নীতি এবং ‘লজ্জাজনক ভণ্ডামি’ প্রদর্শিত হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো যখন তাদের নিজেদের সীমানার ভেতরে সন্ত্রাসের ঢেউ মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হচ্ছে, তখন তারা জুডিয়া ও সামারিয়া [পশ্চিম তীর] নিয়ে মনোযোগ ডাইভার্ট করতে ব্যস্ত।
তিনি আরও যোগ করেন, লন্ডন ও প্যারিসের রাস্তায় যখন ইহুদিরা হাঁটতে ভয় পাচ্ছে, তখন ‘বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা’ নিয়ে মনোনিবেশ করা এবং ইসরায়েল সম্পর্কে মিথ্যা ছড়ানো অত্যন্ত সুবিধাজনক কাজ।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের পর থেকে ফিলিস্তিনি জমিতে ইসরায়েল অবৈধ বসতি নির্মাণ শুরু করে। বর্তমানে প্রায় ৭ লাখেরও বেশি ইসরায়েলি নাগরিক অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের বিভিন্ন অবৈধ বসতিতে বসবাস করছেন, যা ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই বসতিগুলো অবৈধ।
জাতিসংঘ একাধিক রেজোলিউশন ও ভোটের মাধ্যমে এই বসতি স্থাপনের নিন্দা জানালেও, যুক্তরাষ্ট্র দশকের পর দশক ধরে ইসরায়েলকে কূটনৈতিক সুরক্ষা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যেকোনো নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন নিয়মিত তাদের ‘ভেটো’ ক্ষমতা ব্যবহার করে থাকে। ড্যাননের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ওপর বাড়তে থাকা কূটনৈতিক চাপের বিষয়টিকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।
সূত্র: আলজাজিরা