ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব

তেহরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া ও আপস-মীমাংসার সমীকরণ

আপডেট : ০৯ মে ২০২৬, ১০:৫৭ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও, তেহরান এখনো ওয়াশিংটনের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে পর্দার অন্তরালে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও, একটি টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিল সমীকরণ কাজ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করতে পারে। তেহরানের প্রধান লক্ষ্য হলো তাদের ওপর আরোপিত কঠোর নৌ ও অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়া। সিআইএ-র সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান আরও কয়েক মাস অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করার সক্ষমতা রাখে, যা তাদের আলোচনার টেবিলে দরকষাকষির শক্তি জোগাচ্ছে। তবে অভ্যন্তরীণ চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তারা নীতিগতভাবে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে পারে, যদি তাদের সার্বভৌমত্বের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।

একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানকে বেশ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে আপস করতে হতে পারে। এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ইরানকে তাদের উচ্চ-মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। হিজবুল্লাহর মতো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন কমিয়ে আনা এবং সিরিয়া ও লেবাননে তাদের সামরিক উপস্থিতি সীমিত করার চাপ রয়েছে। যদিও ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে আত্মরক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করে, তবে চুক্তির স্বার্থে এর পাল্লা বা নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপের দাবি তুলতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প প্রশাসন চাচ্ছে একটি দ্রুত এবং ‘বিশাল বিজয়’ হিসেবে এই চুক্তিটি উপস্থাপন করতে। অন্যদিকে, ইরান চায় এমন একটি চুক্তি যা কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বস্তি নিশ্চিত করবে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং তেলের বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা উভয় পক্ষের জন্যই একটি সাধারণ স্বার্থের জায়গা হতে পারে।

পরিশেষে, ইরান এই প্রস্তাবে সাড়া দিলেও তারা সম্ভবত শর্তহীন কোনো আত্মসমর্পণ করবে না। বরং নিজেদের সামরিক সক্ষমতা (বিশেষ করে অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র) এবং আঞ্চলিক অবস্থানকে টিকিয়ে রেখেই একটি সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খুঁজবে।

সূত্র: আলজাজিরা

SN
আরও পড়ুন