তুরস্ক উপকূলে গাজা অভিমুখী ফ্লোটিলা, চূড়ান্ত যাত্রার প্রস্তুতি

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র (GSF) ৩০টিরও বেশি জাহাজ তুরস্কের মারমারিস উপকূলে এসে পৌঁছেছে। দীর্ঘ ২৪ দিনের সমুদ্রযাত্রা শেষে জাহাজগুলো এখন তাদের যাত্রার চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শনিবার সন্ধ্যায় জাহাজগুলো তুরস্কের জলসীমায় প্রবেশ করলে তুর্কি কোস্টগার্ড এবং স্থানীয় অ্যাক্টিভিস্টরা সেগুলোকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, খোলা সমুদ্রে কয়েক ডজন নৌযান এক সারিতে অবস্থান করছে। ফ্লোটিলায় থাকা অ্যাক্টিভিস্ট অ্যালেক্স কোলস্টন এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “তুর্কি কোস্টগার্ড এবং স্থানীয় জিএসএফ বহর আমাদের নোঙর করার স্থানের কাছে এসে স্বাগত জানিয়েছে।”

অ্যাক্টিভিস্টরা জানান, এই যাত্রাটি সহজ ছিল না। ইতালি ও গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে যাত্রাবিরতির সময় ইসরায়েলি নৌবাহিনী ২২টি নৌকা আটকে দেয় এবং ফ্লোটিলার দুই প্রধান নেতাকে আটক করে ইসরায়েলে নিয়ে যায়। তবে বর্তমানে ওই দুজনকে ইসরায়েল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মারমারিসে অবস্থানকালে জাহাজগুলোর কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং লজিস্টিক রসদ পুনরায় পূর্ণ করার কাজ সম্পন্ন করা হবে। গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার মিশনের পরবর্তী ধাপগুলো সম্পর্কে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নৌ-অবরোধ ভেঙে ত্রাণ পৌঁছানোর এই উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তুরস্ক এই ফ্লোটিলাটিকে নৈতিক ও কৌশলগত সমর্থন দেওয়ায় মিশনের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। সূত্র: আলজাজিরা