মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৪ দফার বিপরীতে ইরানের দেওয়া জবাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর, দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক অচলাবস্থা নতুন রূপ নিয়েছে। যদিও কোনো পক্ষই প্রস্তাবের মূল নথি প্রকাশ করেনি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী ছয়টি প্রধান ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে চরম মতবিরোধ বিরাজ করছে।
১. পরমাণু কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম মজুত
পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন চায় ইরান তাদের পুরো কর্মসূচি চিরতরে বন্ধ করে দিক। কিন্তু তেহরান বলছে, যেকোনো বিধিনিষেধ কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হতে পারে। এছাড়া ইরানের হাতে থাকা ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের হেফাজতে নিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের এই দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
২. হরমুজ প্রণালি ও বন্দর অবরোধ
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। ইরান এই জলপথে জাহাজ চলাচলের ওপর আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ ও ট্রানজিট ফি দাবি করছে। সেই সঙ্গে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের শর্ত দিয়েছে তারা। অন্যদিকে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ বহাল থাকবে।
৩. জব্দকৃত অর্থ ও নিষেধাজ্ঞা
দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে আটকে থাকা ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পদ অবিলম্বে অবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে ইরান। স্থায়ী চুক্তির অংশ হিসেবে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছে দেশটি।
৪. যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ
ইরান এক নজিরবিহীন দাবি উত্থাপন করে জানিয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় তাদের যে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এই দাবিকে অবাস্তব বলে মনে করছে।
৫. আঞ্চলিক প্রভাব ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের আঞ্চলিক মিত্র বিশেষ করে লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং গাজার হামাসকে সহায়তা দেওয়া বন্ধ করুক। এছাড়া ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়টিও মার্কিন প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান শর্ত।
৬. ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি
মার্কিন প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি সীমিত করা। ওয়াশিংটন এটিকে বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি মনে করলেও তেহরান একে তাদের আত্মরক্ষার সার্বভৌম অধিকার হিসেবে দেখছে।
এই মৌলিক মতপার্থক্যগুলোই বর্তমানে শান্তি আলোচনার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই পক্ষই তাদের অবস্থানে অনড় থাকায় নিকট ভবিষ্যতে কোনো টেকসই চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হবে।