অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইয়ানুন (Yanoun) গ্রামের ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের (সেটলার) ক্রমাগত হামলা ও নির্যাতনের মুখে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই গ্রামেরই একজন কৃষক রশিদ মুররার তাঁর ঘরবাড়ি হারানোর করুণ আর্তনাদ তুলে ধরেছেন।
রশিদ মুররার ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমার অনুভূতি প্রকাশ করার মতো কোনো ভাষা নেই। আমি ইয়ানুন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছি, অথচ আজ আমাকে আমার নিজের ঘরবাড়ি থেকেই জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এক সময় দুই শতাধিক বাসিন্দার মুখর থাকা ইয়ানুন গ্রামটি গত বছর থেকে মূলত জনশূন্য হতে শুরু করে এবং বর্তমানে এটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত এক ভূতুড়ে গ্রামে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রামটির ১৬ বর্গকিলোমিটারেরও (৬ বর্গমাইল) বেশি জমি ইসরায়েলি অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে রশিদ জানান, বসতিস্থাপনকারীরা তাদের রাস্তাঘাট দখল করে যাতায়াত শুরু করে এবং ফিলিস্তিনিদের থামিয়ে প্রতিনিয়ত তল্লাশি ও হেনস্তা করতে থাকে। বহিরাগতদের গ্রামে আসা বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি ভেড়ার খাবারের ট্রাক পর্যন্ত গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। তিনি বলেন, আমি মাঠে ফসল ফালাতাম, আর বসতিস্থাপনকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের গবাদিপশু ছেড়ে দিয়ে আমার পুরো ফসল নষ্ট করে দিত।
বর্তমানে বসতিস্থাপনকারীরা ইয়ানুন গ্রামে একটি বিশাল গেট বা ফটক তৈরি করেছে, যাতে বিতাড়িত ফিলিস্তিনিরা আর কখনোই নিজেদের গ্রামে ফিরতে না পারেন। এর পাশাপাশি ওই এলাকায় কোনো ফিলিস্তিনিকে দেখলেই তাদের ওপর সঙ্ঘবদ্ধ হামলা চালানো হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের মতে, ইয়ানুন গ্রামের এই নির্মম ঘটনাটি আসলে অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা এবং জমি দখলের যে বৃহত্তর ইসরায়েলি নীলনকশা চলছে, তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ।