সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানেই থাকবে: মোজতবা খামেনি

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত দেশের বাইরে পাঠানো হবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয় ছিল সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে হস্তান্তর। তবে নতুন অবস্থানের মাধ্যমে তেহরান আরও কঠোর ও অনড় অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনির এই নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরও হতাশ করতে পারে এবং ইরান–যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ঘিরে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, ট্রাম্প ইসরায়েলকে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি শান্তি চুক্তির অংশ হতে পারে।

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করে আসছে। তাদের দাবি, ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, যা বেসামরিক ব্যবহারের চেয়ে অনেক বেশি এবং অস্ত্র তৈরির পর্যায়ের কাছাকাছি। তবে তেহরান এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সরানো, প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত সংঘাত চলবে।

সূত্রের বরাত দিয়ে আরও বলা হয়, ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য হলো—সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কোনোভাবেই দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না। শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে, এটি বাইরে গেলে দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়বে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন একটি খসড়া প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। এর আগে ইরান ১৪ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল।

তবে চাপ ও হুমকির মধ্যেও আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরান সবসময় যুদ্ধ এড়াতে প্রস্তুত, কিন্তু বলপ্রয়োগ করে দেশকে কোনোভাবেই আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না।  সূত্র: রয়টার্স