আলজাজিরার বিশ্লেষণ

ইরান যুদ্ধ থেকে লেবাননকে বিচ্ছিন্ন করতেই হামলা জোরদার করছে ইসরায়েল

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেবাননকে কৌশলগতভাবে বিচ্ছিন্ন ও খণ্ডিত করার লক্ষ্যেই দেশটিতে সামরিক অভিযান জোরদার করছে ইসরায়েল। এমন মন্তব্য করেছেন সামরিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আলেকজান্দ্রু হুডিস্টেউ।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েল লেবাননে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে, যার উদ্দেশ্য লেবাননকে ইরান-সংক্রান্ত বৃহত্তর সংঘাতের আলোচনার বাইরে সরিয়ে রাখা।

হুডিস্টেউর মতে, এ ক্ষেত্রে ইসরায়েল আংশিকভাবে সফলও হয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান আলোচনা কিংবা কূটনৈতিক তৎপরতায় লেবাননের প্রসঙ্গ আগের তুলনায় অনেক কম গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ লেবাননের ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদগুলোর ওপর একটি বাফার জোন বা নিরাপত্তা বলয় তৈরির পরিকল্পনার সঙ্গেও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার সম্পর্ক থাকতে পারে। তার ভাষায়, ইসরায়েল ধীরে ধীরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণরেখা আরও ভেতরে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকটির দাবি, ইসরায়েল বর্তমানে এক ধরনের ‘ভস্মীভূত ভূমি নীতি’ অনুসরণ করছে। অর্থাৎ হিজবুল্লাহর কাছ থেকে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এলাকাগুলোকে এমনভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে যাতে সেখানে স্বাভাবিক বসবাস প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কার্যত একটি ‘অবাসযোগ্য অঞ্চল’ তৈরি করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ইসরায়েলের কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা বলয় হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

তবে ইসরায়েল দীর্ঘমেয়াদে এসব অবস্থান ধরে রাখতে চায় নাকি পরে সরে যাবে, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন হুডিস্টেউ। তার ভাষায়, আপাতত যা দেখা যাচ্ছে, তা হলো দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকাকে বসবাসের অনুপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে। সূত্র: আলজাজিরা