ইসরায়েলি কারাগারে যৌন নিপীড়নের শিকার জার্মানির নারী সাংবাদিক

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪০ এএম

গাজাগামী মানবিক সাহায্যবাহী নৌবহর ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’র সদস্য ও জার্মানির নারী সাংবাদিক অ্যানা লিডকে ইসরায়েলি হেফাজতে থাকাকালীন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। 

এই ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে একটি ফৌজদারি মামলাও দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

২৫ বছর বয়সী এই জার্মান সাংবাদিক গত বছরের শরতে ইউরোপ থেকে গাজার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি মানবিক সাহায্যবাহী ফ্লোটিলায় যুক্ত হয়েছিলেন। গত ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী তাঁদের নৌযানটি জব্দ করে এবং অ্যানাকে ইসরায়েলে নিয়ে গিয়ে টানা পাঁচ দিন আটকে রাখে।

অ্যানা লিডকে জানান, আটক থাকা অবস্থায় তৃতীয়বার পোশাক খুলে তল্লাশির (স্ট্রিপ-সার্চ) নামে নারী কারারক্ষীরা তাঁকে জোরপূর্বক হাঁটু গেড়ে বসিয়ে মুখ চেপে ধরে যৌন নিপীড়ন চালায়। নির্যাতনের সময় পাশ থেকে পুরুষ কারারক্ষীদের হাসির শব্দ আসছিল এবং পুরো ঘটনাটি ভিডিও করা হচ্ছিল বলে তিনি ধারণা করছেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ফ্লোটিলার সদস্যদের ওপর এ ধরনের পাশবিক নির্যাতনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলা বন্ধ করা এবং তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া। তবে ভয় না পেয়ে তিনি বন্ধুদের বিষয়টি জানান এবং প্রথম ফ্লোটিলা সদস্য হিসেবে এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন।

অ্যানার আইনজীবী এবং ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন ‘আদালাহ’-এর আইনি প্রতিনিধি মুনা হাদ্দাদ জানান, ইসরায়েলি বন্দিশালায় গড়ে ওঠা ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতি’কে চ্যালেঞ্জ করতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

তিনি উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনি বন্দীদের পর এবার ফিলিস্তিনের প্রতি সহানুভূতিশীল বিদেশি নাগরিকদের ওপরও একই রকম সহিংস আচরণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এবং দেশটির কারা কর্তৃপক্ষ (আইপিএস) এই গুরুতর অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, বন্দীদের ওপর পদ্ধতিগত নির্যাতন কিংবা যৌন নিপীড়নের এই অভিযোগগুলো পুরোপুরি ভিত্তিহীন।

উল্লেখ্য, সংঘাতকালীন যৌন সহিংসতার অভিযোগ ওঠার পর গত মে মাসে জাতিসংঘ ইসরায়েলকে তাদের একটি কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সও ইসরায়েলি হেফাজতে তাদের নিজস্ব নাগরিকদের ওপর হওয়া নির্যাতনের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে।

তথ্যের উৎস: দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদন।

HN
আরও পড়ুন