লেবাননের সাংসদ নাজাত আউন সালিবা অভিযোগ করেছেন, হিজবুল্লাহ লেবাননের সরকার ও জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সরাসরি ইরানের নির্দেশনায় কাজ করছে। তার দাবি, তেহরানের এই প্রভাব লেবাননের সার্বভৌমত্বের জন্য একটি গুরুতর হুমকি।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সালিবা বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও সরাসরি আলোচনার বিষয়ে হিজবুল্লাহ নিজেদের অবস্থান জানানোর আগেই ইরান প্রকাশ্যে মতামত দিয়েছে। তার মতে, এটি স্পষ্ট করে যে হিজবুল্লাহর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তেহরানের প্রভাব কতটা গভীর।
তিনি বলেন, লেবাননের সরকার তাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে। সরকার এমন একটি পথ বেছে নিতে চায়, যা দেশের জন্য সবচেয়ে কম ক্ষতিকর এবং কম ব্যয়বহুল। সেই কারণেই তারা সরাসরি আলোচনার পথ অনুসরণ করছে।
তবে সালিবার অভিযোগ, বাস্তবে হিজবুল্লাহ ইরানের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতকে ইরানের ভূখণ্ড থেকে লেবাননের মাটিতে টেনে আনছে। তার দাবি, সংগঠনটি সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও অবস্থান নিচ্ছে এবং লেবাননের জনগণের মতামতকেও উপেক্ষা করছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষ্যেই লেবাননের সেনাবাহিনীকে প্রধান নিরাপত্তা শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং হিজবুল্লাহর সশস্ত্র উপস্থিতি নিরস্ত্রীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সালিবার ভাষ্য, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী দেশের সব সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জন করেছে এবং নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণে সক্ষম। তবে এ জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পর্যাপ্ত সম্পদ, যা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা