মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নজর তেহরানের 

তেহরানের সামরিক কৌশলে নতুন এক ধারা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা ও সামরিক বিশ্লেষকরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান এখন এমন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করছে যা সামরিক ঘাঁটির মধ্যে সীমাবদ্ধ, তবে সংঘাতকে বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ দিতে চায় না।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি সম্প্রতি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে কোনো দেশ বা আকাশপথ ব্যবহার করে আক্রমণ চালালে সেই উৎসকে লক্ষ্য করে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় হরমুজ প্রণালি ঘিরে ট্যাঙ্কার চলাচল নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। ইরানি পক্ষের দাবি অনুযায়ী, সমন্বয় ছাড়া কিছু ট্যাঙ্কার প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের একটি ফেরত যেতে বাধ্য করা হয়।

এরপর ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কেশম ও সিরি দ্বীপে আঘাত হানে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। ইরানের অভিযোগ, সেখানে বিপ্লবী গার্ডের একটি টেলিকমিউনিকেশন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান দাবি করে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি থাকা স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে কুয়েতে আলি আল সালেম এয়ার বেস এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিট সদর দপ্তর অন্তর্ভুক্ত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক ঘটনার মাধ্যমে ইরান এমন একটি কৌশল অনুসরণ করছে যেখানে তারা নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, কিন্তু সংঘাতকে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম রাখে।

এদিকে হরমুজ প্রণালি, লেবানন ফ্রন্ট এবং বিভিন্ন যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত বিতর্ক চললেও এখন পর্যন্ত তা বড় আকারের নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রূপ নেয়নি বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা