যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত শান্তি চুক্তিটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি সম্পূর্ণ নতুন পরিস্থিতি ও বাস্তবতার তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বৈরিতা ও বিরোধ অনেকাংশে কমে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, দেশের নীতি নির্ধারণী ফোরাম ‘ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ’-এর অধিকাংশ সদস্যই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া এই শান্তি চুক্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে চুক্তির ভেতরের বিস্তারিত ও স্পর্শকাতর তথ্যগুলো পরবর্তী সময়ে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চুক্তি সম্পন্ন হলেও সতর্ক অবস্থান থেকে এখনই সরছে না তেহরান। এ প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো কারণে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্তাবলি অমান্য বা লঙ্ঘন করে, তবে ইরানও বসে থাকবে না এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় (অ্যালার্ট) রাখা হয়েছে বলেও মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, এই সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এই জলপথটি দিয়ে বিশ্বের একটি বিশাল অংশের তেল পরিবহন করা হয়ে থাকে। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এই রুটটি চালু হওয়াকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই নতুন পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এই চুক্তি ও জলপথ উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী কোনো বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরনের অতিরিক্ত টোল বা বাড়তি ফি আদায় করা উচিত হবে না। তিনি এই রুট দিয়ে সবার অবাধ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।