যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর ধৈর্যের বাঁধ খুব শিগগিরই ভেঙে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আরব পার্সপেকটিভস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেইদন আলকিনানি। তার মতে, যুদ্ধের শুরু থেকেই কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকা দেশগুলো এখন উল্টো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রধান ভুক্তভোগী হয়ে উঠছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলকিনানি বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলো শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু এরপরও ইরানের পাল্টা হামলার চাপ তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।
তার ভাষায়, ‘এই মুহূর্তে তাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো দ্রুত এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করা, যাতে যুদ্ধ বন্ধ হয় এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, যেখানে তাদের কোনো এক পক্ষ বেছে নিতে বাধ্য হতে হবে।’
আলকিনানির মতে, ইরান বর্তমান সংঘাতকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে স্পষ্ট যে, ইরান এই পরিস্থিতিকে অঞ্চলে সামরিক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকা দেশগুলোর ওপরও হামলা চালানোর সক্ষমতা প্রদর্শন করছে।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘উপসাগরীয় দেশগুলোর ধৈর্য এবং ইরানকে ঘিরে তাদের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি খুব শিগগিরই ভেঙে পড়তে পারে।’
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। সূত্র: আলজাজিরা