যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক না হলে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল। তিনি বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বিশ্বকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে হবে।
বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে ফাতিহ বিরোল বলেন, “তেল নিরাপত্তা এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।” তিনি জানান, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে তিনি নিজেও উদ্বিগ্ন।
তার এ মন্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা জোরদার করার পর। যুক্তরাষ্ট্র টানা ষষ্ঠ রাতের মতো হামলা চালিয়ে বান্দার আব্বাস, আহভাজ ও ইরানশহর এলাকায় আঘাত হানে। একই সময়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় আরোপ করা নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছে-এমন অভিযোগে একটি জাহাজে হামলা চালানো হয়।
এর জবাবে ইরান ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়। কাতারেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
এই উত্তেজনার ফলে এক মাস আগে পাকিস্তানে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে করা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের উপকূলীয় শহরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ক্রমেই অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি সেতুতেও হামলা হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমঝোতা স্মারকের প্রতি প্রতিশ্রুতি না থাকায় তারা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রেখেছে।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বান্দার-এ খামির সেতুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফাজল শেকারচি বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালিতে হস্তক্ষেপ না করার এবং অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধের আগের পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি আর ফিরে যাবে না।” তার দাবি, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে ইরান ও ওমানের সার্বভৌমত্বের আওতাধীন এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ কোনো বাইরের পক্ষের এতে হস্তক্ষেপের অধিকার নেই।
আল জাজিরার প্রতিবেদক রোজিল্যান্ড জর্ডান জানান, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের টানা ষষ্ঠ রাতের হামলার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।
সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহালের পর পাঁচটি জাহাজ ওই অবরোধ অতিক্রমের চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে তিনটিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একটি ‘অকার্যকর’ করা হয়েছে। তবে কীভাবে জাহাজটি অকার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এ ছাড়া মার্কিন মেরিন সেনারা একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অভিযান চালিয়েছে। তবে জাহাজটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট অভিযোগ করেছেন, ইরান নিজেই ধ্বংস ডেকে এনেছে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা না করার বিষয়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্ত ইরান লঙ্ঘন করেছে বলেই সাম্প্রতিক হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধের অবসানে এখনও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রয়েছে।