হরমুজ প্রণালি চালুর বিষয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে: ইরান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন একটি রুট নির্ধারণের বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে (IRNA) জানান, ওমানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নতুন সমুদ্রপথটির ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে।

তবে তিনি জোর দিয়ে সতর্ক করেন, ওমানের সঙ্গে চুক্তি হলেও প্রণালিটিতে শতভাগ নিরাপদ নৌচলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। ইরানের বিভিন্ন বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধ ও অন্যান্য আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ এখনো বজায় থাকায় নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণগুলো দূর হয়নি।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদী জানান, এই বিকল্প রুটটি স্থায়ী নয়, এটি ২ থেকে ৪ মাসের জন্য সাময়িকভাবে কার্যকর রাখা হতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চুক্তি প্রক্রিয়ায় ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মূল মতবিরোধের জায়গা হলো জাহাজের পণ্য থেকে মাশুল বা ফি আদায়। ইরান প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজের কার্গো মূল্যের ওপর ৫% থেকে ৭% ফি দাবি করছে। ওমান প্রায় ৩% ফির বিষয়ে আলোচনা করলেও যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ফি দেওয়ার বিপক্ষে। প্রস্তাবিত চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর তেহরানের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।

গত ২৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালায়। জবাবে ইরানও আক্রমণ শুরু করে এবং বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনকারী এই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। গত জুন মাসে উভয় পক্ষ একটি ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করলেও তা স্থায়ী হয়নি এবং কিছুদিনের মধ্যেই পুনরায় হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার হুশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, অতি দ্রুত প্রণালিটি না খোলা হলে ইরানকে "কঠিন মূল দিতে হবে"। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে খুব শীঘ্রই প্রণালি চালুর ঘোষণা আসতে পারে। তা সত্ত্বেও তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো সরাসরি আলোচনা করছে না এবং করার পরিকল্পনাও নেই। চলমান এই সামরিক উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর দিনে প্রথম হামলাই নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এরপর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হন। ঐ একই হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে তরুণ এই নেতা আর জনসমক্ষে আসেননি। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বুধবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন, মোজতবা খামেনির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা বর্তমানে "কঠিন" হলেও তাদের মধ্যে ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্ব ইরানের জন্য এক বিশাল শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

সূত্র: বিবিসি