সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর আগ্রাসনের কথা উল্লেখ করে আরব বিশ্লেষক আবদুলবারি আতওয়ান বলেছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান তার বিশেষ কৌশলের মাধ্যমে বিশ্বের সামরিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে। মার্কিন বিশেষজ্ঞদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ইরান আগ্রাসনকারীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
‘রাই আল-ইয়াওম’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে সৌদি আরবের কাছে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তি এবং সংশ্লিষ্ট খবরের প্রসঙ্গে এসব কথা লিখেছেন তিনি।
আতওয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান আবারো তিনটি প্রধান কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম এশিয়ার সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
প্রথমত : ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ‘একটি নতুন যুগ শুরু হয়েছে, যেখানে শত্রুর এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং এর উন্নত সংস্করণ এফ-১৫-কে শিকার ও অনুসরণ করা হবে।’
দ্বিতীয়ত : সৌদি আরবের ৪৮টি এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, যার মূল্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
তৃতীয়ত : ইসরাইল মার্কিন সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এমন উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়ার চেষ্টা করছে, যেগুলো বিক্রি করতে যুক্তরাষ্ট্র আগে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, গত সাত মাসে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রতিটি হামলার পর্যায়ে ইরানের নতুন নতুন অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলি ও মার্কিন পক্ষকে বিভ্রান্ত করেছে।
সৌদি আরবের কাছে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহের বিষয়ে আতওয়ান লেখেন, চুক্তি স্বাক্ষরের অন্তত পাঁচ বছর পর সৌদি বিমানবাহিনীর কাছে প্রথম এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা হবে। এই পাঁচ বছরে পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটতে পারে। এমনকি এ অঞ্চলে কোনো মার্কিন সেনা বা ঘাঁটি না থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে—হয় সেগুলো ধ্বংস হওয়ার কারণে, অথবা ক্ষয়ক্ষতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজে থেকেই প্রত্যাহারের কারণে।
তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি বড় শক্তি—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের আগে তাদের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার ছিল বিশ্বের বৃহত্তম। তবে ইরানের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসনের পর সেই ধারণা বদলে গেছে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হলো, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
আরব বিশ্লেষক জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীতে কর্মরত জেনারেল জন কর্ডেল দু’দিন আগে ‘মিলিটারি টাইমস’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, মানামায় মার্কিন নৌ-সহায়তা ঘাঁটির ধ্বংস একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ধ্বংসের সমতুল্য। এ ধরনের ঘাঁটি নির্মাণে মার্কিন কোষাগারের শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।
এত দ্রুত ও সহজে এগুলোর ধ্বংস হওয়া মার্কিন সামরিক কাঠামো ও এর বৈশ্বিক ভাবমূর্তির জন্য একটি বড় আঘাত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আতওয়ান বলেন, ইরান প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তথাকথিত অপ্রতিরোধ্যতার ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে এবং এখন মার্কিন স্টেলথ যুদ্ধবিমানকেও যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হচ্ছে। ইরান মার্কিন ও ইসরাইলি অস্ত্রভাণ্ডারকে প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের দিক থেকে শূন্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, গালিবাফ বলেছেন যে একটি নতুন যুগ শুরু হয়েছে, যেখানে মার্কিন এফ-১৫ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করা হবে। তার এ সংক্রান্ত বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। সময়ই সবকিছু স্পষ্ট করে দেবে।
সূত্র : পার্সটুডে