যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি এখন আর শুধু তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনক্ষমতাকেই দুর্বল করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে ওয়াশিংটন। ফক্স নিউজে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে এমন দাবি করেছেন ইরানি বিশ্লেষক এরফান ফার্দ।
ফক্স নিউজে প্রকাশিত ওই মতামত নিবন্ধে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল এখন ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, তেল শোধনাগার, জ্বালানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক, যোগাযোগ ও কমান্ড–কন্ট্রোল অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার দিকে এগোচ্ছে। লেখকের মতে, এসব অবকাঠামোই বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
এরফান ফার্দ দাবি করেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী আন্তরিকভাবে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় না। বরং তারা আলোচনাকে সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপের লক্ষ্য এখন শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়; বরং এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়ে।
নিবন্ধে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও যোগাযোগব্যবস্থা অকার্যকর হলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সমন্বয় ক্ষমতা দুর্বল হবে, কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়বে এবং দেশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠবে।
লেখক দাবি করেন, বহু ইরানি সরকারবিরোধী নাগরিকও মনে করেন, স্বল্পমেয়াদি কষ্টের বিনিময়ে শাসনব্যবস্থার পতন হলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
এরফান ফার্দ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, আইআরজিসির অর্থায়নের উৎস, প্রক্সি নেটওয়ার্ক, নজরদারি সক্ষমতা ও যোগাযোগব্যবস্থাকেও লক্ষ্যবস্তু করা। একই সঙ্গে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপান্তরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। সূত্র: ফক্স নিউজ