আগ্রাসন হলে তাৎক্ষণিক জবাব দেবে ইরান: মোহসেন রেজাই

যেকোনো হুমকির মুখে ইরানের জনগণের অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ থেকে সরে আসবে না ইসলামি প্রজাতন্ত্র, এমন প্রত্যয় জানিয়েছেন দেশটির নবনিযুক্ত সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব মোহসেন রেজাই। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এখন থেকে আরও দৃঢ়, বিচক্ষণ ও সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।

নিয়োগের পর দেওয়া এক বার্তায় রেজাই ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মোজতবা খামেনির প্রতি আস্থা ও মনোযোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ইরানের সমসাময়িক ইতিহাসের একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ।

রেজাই বলেন, কোনো হুমকির মুখেই ইরান তার জাতীয় অধিকার ত্যাগ করবে না। পরিস্থিতি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে বিচক্ষণতা ও সাহসের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ভবিষ্যতে এসব সিদ্ধান্ত আগের চেয়ে আরও দৃঢ় হতে হবে বলেও জানান তিনি।

তার ভাষ্য, লক্ষ্য শুধু একটি কঠিন ও সংকটপূর্ণ সময় পার করা নয়। বরং এই সময় শেষে ইরানকে আরও নিরাপদ, ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে, যাতে দেশটির অগ্রগতি ও উন্নয়নের সক্ষমতা আরও বাড়ে।

পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে রেজাই বলেন, নেতার বৃহত্তর নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইরান প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করবে এবং প্রতিপক্ষের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। কোনো আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে ‘তাৎক্ষণিক ও সিদ্ধান্তমূলকভাবে’।

একই সঙ্গে জাতীয় কল্যাণ ও আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইরানের স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে বলে জানান তিনি। কূটনৈতিক সক্ষমতার ব্যবহার, শক্তিশালী যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বজায় রাখার পাশাপাশি যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় দেশের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখার কথাও বলেন রেজাই।

জাতীয় ঐক্য ও সংহতিকেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। রেজাই বলেন, ঐতিহাসিক ও গৌরবময় এই সময় পার হতে ইরানের জনগণ ও কর্মকর্তাদের মধ্যে আস্থা, আরও দৃঢ় সংহতি ও ঐক্যের পাশাপাশি বিচক্ষণতা প্রয়োজন।

রেজাই আরও বলেন, তার লক্ষ্য হবে আঞ্চলিক পরিসরে ইরানকে আগের চেয়ে বেশি স্থিতিশীলতা, শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও শান্তির একটি শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাখা।