ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাব ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে, সেনারা ওই গাড়িতে গুলি চালিয়েছিল। একই সঙ্গে ঘটনাটির বিষয়ে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় পাঁচ বছর বয়সী হিন্দ রাজাব পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি গাড়িতে আটকা পড়েন। তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত অবস্থায় গাড়ির ভেতর থেকে হিন্দ জরুরি সেবায় ফোন করে সাহায্যের আবেদন করেছিলেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করতে পাঠানো একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১২ দিন পর হিন্দ, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং উদ্ধার করতে যাওয়া দুই প্যারামেডিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এর আগে ওই এলাকায় তাদের সেনাদের উপস্থিতি বা গাড়িটিতে গুলি চালানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছিল। তবে পরবর্তী পর্যালোচনায় সেনাদের গুলি চালানোর বিষয়টি উঠে আসে। এবার সেই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেনাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজায় অন্যান্য বিতর্কিত ঘটনারও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ১৫ ফিলিস্তিনি প্যারামেডিক নিহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। ওই ঘটনাতেও ফৌজদারি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হিন্দ রাজাবের মৃত্যুর ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। তাঁর জরুরি সহায়তার জন্য করা ফোনকলের বিবরণ এবং উদ্ধারকারী দলের মৃত্যুর ঘটনা বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। পরবর্তী বিভিন্ন স্বাধীন অনুসন্ধানেও ঘটনাস্থলে ইসরায়েলি সামরিক যান থাকার বিষয়ে তথ্য উঠে আসে।
তবে তদন্তের সিদ্ধান্তকে ঘিরে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে সংশয়ও রয়েছে। সমালোচকদের একটি অংশ মনে করে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্ত অতীতে অনেক ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণ বা শাস্তির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ফলে হিন্দ রাজাবের পরিবার ও অধিকারকর্মীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জবাবদিহির দাবিও জানিয়ে আসছেন।