লিংকনের জায়গায় মধ্যপ্রাচ্যে এলো ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন

মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি হিসেবে বুধবার (১৯ আগস্ট) মধ্যপ্রাচ্যে প্রবেশ করেছে রণতরীটি। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, নির্ধারিত সামরিক মোতায়েনের অংশ হিসেবে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মধ্যপ্রাচ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। আগের দিনই এটি সেন্টকমের আওতাধীন এলাকায় পৌঁছায়।

ইরান যুদ্ধের কারণে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের মোতায়েন দীর্ঘায়িত হওয়ার পর সেটির দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে জর্জ ওয়াশিংটন। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান করায় আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের জীবনযাপন ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে আব্রাহাম লিংকন থেকে এক নাবিক সমুদ্রে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, এই ঘটনার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মোতায়েন, কঠিন জীবনযাপন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আব্রাহাম লিংকন দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের কারণে। এর ফলে রণতরীটির স্বাভাবিক মোতায়েনকাল উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতা ও নৌবাহিনীর সদস্যদের পরিবারের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে জর্জ ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ভিয়েতনামে একটি বন্দর সফরের পর। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট ভিয়েতনাম সফর শেষে রণতরীটির মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রা শুরু হয়।

তবে এই রণতরী বদলকে নতুন কোনো জরুরি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্রাহাম লিংকনকে প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা আগেই নির্ধারিত ছিল।

ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্যে আগমন অবশ্য এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে নির্ধারিত রোটেশনের অংশ হলেও নতুন বিমানবাহী রণতরীটির আগমন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌ-উপস্থিতিকে আরও দৃশ্যমান করছে।

 

অন্যদিকে জর্জ ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাময়িকভাবে কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরী থাকবে না। অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যে একটি রণতরী প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌ উপস্থিতিতেও সাময়িক পরিবর্তন তৈরি হচ্ছে।

জর্জ ওয়াশিংটনের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ ও বিতর্কিত মোতায়েনের অবসান ঘটার কথা। তবে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের কারণে নাবিকদের মানসিক ও শারীরিক চাপের বিষয়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকছে। সূত্র: সিএনএন