'সামরিক ও অর্থনৈতিক যুদ্ধের মাঝেও অটল ইরান' 

সর্বাত্মক অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা যুদ্ধের মধ্যেও ইরান দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার দাবি, ইরান ভেঙে পড়বে, শত্রুপক্ষের এমন পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে দেশটির জনগণের ঐক্য ও সক্ষমতা বিশ্বকে বিস্মিত করেছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতার আদর্শের প্রতি আনুগত্য পুনর্ব্যক্ত করার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পেজেশকিয়ান। এ সময় তিনি যুদ্ধে নিহত ব্যক্তি, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা, সামরিক কমান্ডার, বিজ্ঞানী, শিক্ষার্থী, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং সাধারণ মানুষের স্মরণে শ্রদ্ধা জানান।

পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান বর্তমানে একসঙ্গে অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তাজনিত নানা চাপের মোকাবিলা করছে। এর সঙ্গে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা, বিভিন্ন ধরনের চাপ এবং ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড। একই সময়ে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি, পরিবেশ ও ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গুরুতর ভারসাম্যহীনতার মতো অভ্যন্তরীণ সমস্যাও মোকাবিলা করতে হচ্ছে সরকারকে।

তার ভাষায়, শত্রুরা ভেবেছিল তাদের চাপ ও বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ইরান ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। বরং ইরানি জনগণের শক্তি ও ঐক্য পুরো বিশ্বকে বিস্মিত করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানের জনগণের প্রতিরোধের প্রশংসা করে পেজেশকিয়ান বলেন, এত ব্যাপক চাপের মধ্যেও কীভাবে দেশটির মানুষ পরিস্থিতি সামলে উঠেছে, তা বিশ্লেষকদের পক্ষেও সহজে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ইরানের জনগণ সত্যিই এক ধরনের অলৌকিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

চলমান সংকটের মধ্যে সরকার জনগণের জীবনযাত্রা ও কল্যাণের উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান প্রেসিডেন্ট। তবে দেশের নানা সমস্যার জন্য জনগণের কাছে সরকারের এক ধরনের দায়বদ্ধতা রয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি।

পেজেশকিয়ান বলেন, যতক্ষণ তার শরীরে প্রাণ আছে, ততক্ষণ তিনি জনগণের সেবা করে যাবেন। মানুষের জীবন ও কল্যাণের উন্নতি এবং চলমান সংকটগুলো শক্তভাবে অতিক্রম করার জন্য সরকার কাজ করে যাবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষদিকে কোরআনের কয়েকটি আয়াতের প্রসঙ্গ টেনে পেজেশকিয়ান বলেন, যারা কোনো বিষয় পুরোপুরি না বুঝেই তা অস্বীকার করে, তাদের পরিণতি সম্পর্কে ইতিহাস শিক্ষা দেয়। এ প্রসঙ্গে তিনি ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও প্রতিপক্ষের হিসাব-নিকাশের সমালোচনা করেন। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি