শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানোকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের নতুন হুমকি

গাজায় শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানোকে কেন্দ্র করে আবাসিক এলাকায় হামলা বাড়ানো এবং বাসিন্দাদের উচ্ছেদের হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল।

অথচ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিজেই জানিয়েছে, গাজা সীমান্ত থেকে উদ্ধার করা ঘুড়িগুলোতে কোনো বিপজ্জনক উপাদান পাওয়া যায়নি এবং সেগুলো কোনো হুমকি তৈরি করেনি।

ফিলিস্তিনের বাস্তুচ্যুত শিবিরগুলোতে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কিছুটা স্বস্তি পেতে শিশুরা বিনোদনের অংশ হিসেবে এসব সুতার ঘুড়ি ওড়ায়। হালকা ওজনের ঘুড়িগুলো বাতাসে ভেসে কিংবা সুতা ছিঁড়ে মাঝে মাঝে সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলি লোকালয়ের দিকে চলে যায়।

ঘুড়িগুলোতে বিস্ফোরক না পাওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে গাজায় হামলা বাড়ানো এবং আবাসিক এলাকা খালি করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ইসরায়েলি সেনাপ্রধান ইয়াল জামির ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরাপত্তা বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, যে এলাকা থেকে ঘুড়ি, বেলুন বা ড্রোন আসবে, সেই এলাকা খালি করে দেওয়া হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ বলেন, একটি ঘুড়ি বা বেলুন বিস্ফোরক বহন করুক বা না করুক, তা ড্রোনের মতোই বিপজ্জনক।

ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিরা হাস্যকর এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অজুহাত হিসেবে দেখছেন। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাশেম বলেন, শিশুদের খেলনাকে অজুহাত বানিয়ে নতুন করে হামলা চালানোর চেষ্টা করছে ইসরায়েল। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোকে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইয়াদ আল-কাররা বলেন, একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ শিশুদের ঘুড়ি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়া অবান্তর। তার মতে, ইসরায়েলি নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত পূরণ এড়িয়ে হামলা চালিয়ে যাওয়ার অজুহাত হিসেবেই এই হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শনিবার জানায়, নাহাল ওজ এলাকা থেকে উদ্ধার করা চারটি ঘুড়ি পরীক্ষা করে কোনো সন্দেহজনক উপাদান বা ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। এরপরও স্থানীয় কাউন্সিলের প্রধানরা সামরিক অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ইসরায়েলি বাহিনী প্রতিদিন লঙ্ঘন করে চলেছে। এতে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৮৬ জন নিহত হয়েছেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি